ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
রাজশাহী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রধান শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা,
প্রশাসনিক ও পর্যটন কেন্দ্র। এটি রেশম শিল্প, সুস্বাদু আম, পরিচ্ছন্ন নগরী এবং
ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য সারা দেশে পরিচিত লাভ করেছে। ঢাকা থেকে রাজশাহী যাতায়াতের জন্য ট্রেন ভ্রমণ সবচেয়ে নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী পরিবহন মাধ্যম। বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে এই রুটে প্রতিদিন একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে, যা প্রতিদিন হাজারো যাত্রীর যাতায়াত সহজ করে।। বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে এই রাস্তায় প্রতিদিন অনেকগুলো
আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে, যা লক্ষ লক্ষ যাত্রীর চাহিদা পূরণ
করে।
আজকের এই ট্রেন সাইটের আর্টিকেলে আমরা ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও
ভাড়া ২০২৬, এবং টিকিট বুকিং করার নিয়ম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সম্পর্কে জানব।
পেজ সুচিপত্রঃ ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
- ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
- রাজশাহী টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
- ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকিট বুকিং করার নিয়ম
- ঢাকা থেকে রাজশাহী বা রাজশাহী থেকে ঢাকা ট্রেনের ভাড়া ২০২৬
- ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের দূরত্ব ও সময়
- ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেন নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হল
- ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে কত সময় লাগে?
- বনলতা এক্সপ্রেস কোন কোন জায়গায় থামে?
- মধুমতী ট্রেন কবে কবে বন্ধ থাকে?
- লেখকের শেষ কথা
ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
২০২৬ হিসেবে বর্তমানে এই রাস্তায় ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। নিচে
ট্রেনের নাম, নম্বর, ছাড়ার সময় এবং পৌঁছানোর সময় ও বন্ধের দিন সকল তথ্য
দেওয়া হলঃ
| ট্রেনের নাম | ট্রেনের নম্বর | ছাড়ার সময় (ঢাকা কমলাপুর) | পৌঁছানোর সময় (রাজশাহী) | যেতে সময় লাগে | বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|---|---|
| ধূমকেতু এক্সপ্রেস | ৭৬৯ | সকাল ৬:০০টা | দুপুর ১১:৪০ টা | ৫ ঘণ্টা ৪০ মিঃ | বন্ধ নেই |
| সিল্কসিটি এক্সপ্রেস | ৭৫৩ | দুপুর ২:৩০ মিনিট | রাত ৮:২০ মিনিট | ৫ ঘণ্টা ৫০ মিঃ | বুধবার |
| বনলতা এক্সপ্রেস | ৭৯১ | দুপুর ১:৩০ মিনিট | সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিট | ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিঃ | শুক্রবার |
| পদ্মা এক্সপ্রেস | ৭৫৯ | রাত ২:৪৫ মিনিট | ভোর ৭:২৫ মিনিট | ৫ ঘণ্টা ৪০ মিঃ | বন্ধ নেই |
| মধুমতি এক্সপ্রেস | ৭৫৫ | বিকেল ৩:০০টা(পদ্মা সেতু রুট) | রাত ১১ :০০ টা | ৮ ঘণ্টা | বন্ধ নেই |
রাজশাহী টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
এই অংশে রাজশাহী টু ঢাকায় আসার জন্য নিচের এই ট্রেনগুলো চলাচল করে। রাজশাহী
থেকে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পোঁছানোর সময়, ট্রেন নাম্বার, ও বন্ধের
দিন সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্য দেওয়া হলঃ
ঢাকা টু রাজশাহী ও রাজশাহী টু ঢাকার জন্য সমান ভাড়া।
| ট্রেনের নাম | ট্রেনের নম্বর | ছাড়ার সময় (রাজশাহী) | পৌঁছানোর সময় (ঢাকা কমলাপুর) | যেতে সময় লাগে | বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|---|---|
| ধূমকেতু এক্সপ্রেস | ৭৭০ | সকাল ১১:৫০ টা | বিকেল ৫:৩০ | ৫ ঘণ্টা ৪০ মিঃ | বন্ধ নেই |
| সিল্কসিটি এক্সপ্রেস | ৭৫৪ | সকাল ৭:৪০ মিঃ | দুপুর ১:৩০ মিঃ | ৫ ঘণ্টা ৫০ মিঃ | বুধবার |
| বনলতা এক্সপ্রেস | ৭৯২ | সকাল ৬:০০ টা | সকাল ১০:৪৫ মিঃ | ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিঃ | শুক্রবার |
| পদ্মা এক্সপ্রেস | ৭৬০ | সকাল ৯:৪০ মিঃ | দুপুর ৩:২০ মিঃ | ৫ ঘণ্টা ৪০ মিঃ | বন্ধ নেই |
| মধুমতি এক্সপ্রেস | ৭৫৬ | সকাল ১০:০০ টা | বিকেল ৬:০০ টা | ৮ ঘণ্টা | বন্ধ নেই |
ঢাকা থেকে রাজশাহী বা রাজশাহী থেকে ঢাকা ট্রেনের ভাড়া ২০২৬
ভাড়া মূলত আসনের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। নিচে সাধারণত ভাড়ার তালিকা
(যাত্রী প্রতি) দেওয়া হলঃ
| আসনের ধরন | ভাড়া (টাকা) | সুযোগ-সুবিধা |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৪৫০-৫৫০ | সাধারণ সিট, আরামদায়ক চেয়ার |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৮০০-৯৫০ | এয়ারকন্ডিশনড, বেশি আরাম |
| এসি সিট/বার্থ | ১২০০-১৬০০ | এসি, বার্থ সুবিধা (রাতের ট্রেনে) |
| এসি বার্থ | ১৫০০-২০০০ | ব্যক্তিগত বার্থ, উন্নত সুবিধা |
বিশেষ কথাঃ শিশু (৩-১১ বছর বয়স) ৫০% ছাড়। এবং বনলতা এক্সপ্রেসে নন-স্টপ
চার্জের কারণে ভাড়া কিছুটা বেশি হতে পারে।
ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকিট বুকিং করার নিয়ম
বর্তমানে ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকিট অনলাইন, মোবাইল অ্যাপ এবং
রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার—এই তিনটি উপায়ে সংগ্রহ করা যায়। যাত্রার তারিখ
অনুযায়ী আগে থেকেই টিকিট কেটে রাখলে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে,
বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদসহ অন্যান্য উৎসবের সময়।
অনলাইনে টিকিট বুকিং
অনলাইনে টিকিট কাটতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং সিস্টেমে একটি অ্যাকাউন্ট
তৈরি করতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে লগইন করে
যাত্রার তারিখ, গন্তব্য, ট্রেন এবং আসনের ধরন নির্বাচন করুন। এরপর অনলাইনে
পেমেন্ট সম্পন্ন করলে ই-টিকিট ডাউনলোড করা যাবে।
মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে
বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেও সহজেই টিকিট কাটা
যায়। অ্যাপে লগইন করে ট্রেন, তারিখ ও আসন নির্বাচন করে মোবাইল ব্যাংকিং,
ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলে টিকিট সঙ্গে সঙ্গে
পাওয়া যায়।
কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ
যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে চান না, তারা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন বা দেশের
যেকোনো রেলওয়ে বুকিং কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।
যাত্রার আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে কাউন্টারে যাওয়া ভালো।
টিকিট বুকিংয়ের সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
যাত্রার তারিখ অনুযায়ী অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করুন।
নিজের নাম ও পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করুন।
টিকিট বুকিংয়ের পর এসএমএস বা ই-টিকিট সংরক্ষণ করুন।
যাত্রার দিন নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত থাকুন।
ঈদ ও অন্যান্য বড় ছুটির সময় টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে, তাই যত
দ্রুত সম্ভব বুকিং করুন।
ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের দূরত্ব ও সময়
ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৩৪৩ কিলোমিটার।
আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রা সময় সাধারণত ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা লাগে। এই রুটে চলাচলকারী
ট্রেনগুলো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যেমন এসি সিট, শোভন চেয়ার, খাবার গাড়ি এবং
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে।
ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেন নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলঃ
ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার সময় কত?
ধূমকেতু এক্সপ্রেস ৫ ঘণ্টা ৪০
মিনিট রাজশাহী পৌঁছাতে পারবেন।
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ৫ ঘণ্টা ৫০
মিনিট রাজশাহী পৌঁছাতে পারবেন।
বনলতা এক্সপ্রেস ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
(সবচেয়ে দ্রুত)রাজশাহী পৌঁছাতে পারবেন।
পদ্মা এক্সপ্রেস প্রায় ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট রাজশাহী পৌঁছাতে পারবেন।
মধুমতি এক্সপ্রেস প্রায় ৮ ঘণ্টা
রাজশাহী পৌঁছাতে পারবেন।
বনলতা এক্সপ্রেস কোন কোন জায়গায় থামে?
ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১) এবং রাজশাহী/চাঁপাইনবাবগঞ্জ
থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯২) মূলত বিরতিহীন (নন-স্টপ) আন্তঃনগর
ট্রেন হিসেবে চালু হয়েছিল। বর্তমানে এটি ঢাকা, বিমানবন্দর, রাজশাহী ও
চাঁপাইনবাবগঞ্জ—এই চারটি স্টেশনেই যাত্রী ওঠানামা করে। এর মধ্যে:
ঢাকা (কমলাপুর) – যাত্রা শুরু/শেষ
ঢাকা বিমানবন্দর – যাত্রী ওঠানামা
রাজশাহী – যাত্রী ওঠানামা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ – যাত্রা শুরু/শেষ (রুট সম্প্রসারণের পর)
অর্থাৎ, ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে বনলতা এক্সপ্রেস মাঝপথের অন্যান্য
স্টেশন (যেমন টাঙ্গাইল, উল্লাপাড়া, চাটমোহর, ঈশ্বরদী, আব্দুলপুর ইত্যাদি)
যাত্রী ওঠানামার জন্য থামে না।
তবে ট্রেনের অপারেশনাল কারণে (যেমন সিগন্যাল বা ক্রসিং) কোথাও সাময়িকভাবে
দাঁড়াতে পারে, কিন্তু সেটি নির্ধারিত যাত্রী স্টপেজ নয়।
মধুমতী ট্রেন কবে কবে বন্ধ থাকে?
মধুমতী ট্রেনটি সপ্তাহে সাত দিনই চলাচল করে। অর্থাৎ কোন দিন বন্ধ থাকেনা।
লেখকের শেষ কথা
আশা করি, ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া, টিকিট বুকিং ও
যাত্রাসংক্রান্ত তথ্যগুলো আপনার উপকারে এসেছে। ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের
সর্বশেষ সময়সূচী ও ভাড়া যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ রইল। ট্রেন ভ্রমণ
সম্পর্কিত আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট
করুন।
বন্ধুরা যদি এই ব্লগ ভালো লাগে বা এই ব্লগ পড়ে যদি আপনাদের উপকার হয়ে থাকে
তাহলে আপনারা নিয়মিত ব্লগ পেতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। আবার দেখা হবে নতুন কোন
এই রকম উপকারি কোন ব্লগ নিয়ে ততদিন সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ!


ইটস হিমেল এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url