নামাজে মনোযোগী হওয়ার ৩৩ উপায়

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি ‍স্তম্ভ,  এবং একজন মুসলিমের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। প্রতিদিন সময়মত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে একজন বান্দা মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়ায় এবং তাঁর ইবাদত করে ও ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণ কামনা করে।
কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন যে নামাজে দাঁড়ালেই মন নামাযে থাকেনা। নামাযে দাড়ালে বিভিন্ন ধরনের চিন্তা চলে আসে। কখনো সংসারের চিন্তা, কখনো চাকরি বা অপ্রয়োজনৗয় অনেক বিষয় মনে পড়তে থাকে। ফলে নামাজের আসল যে সৌন্দর্য তা আর থাকেনা।
নামাজে-মনোযোগী-হওয়ার-৩৩-উপায়
এই আর্টিকেলে আমরা জানব নামাজে মনোযোগী হওয়ার ৩৩টি কার্যকর উপায় যা নিয়মিত করলে ইনশাআল্লাহ আপনার নামাজ আরও সুন্দর হবে ইনশাআল্লাহ।

নামাজে মনোযোগী হওয়ার ৩৩টি কার্যকর উপায়!

 ১. আন্তরিকভাবে নিয়ত করা

আমরা নামাজ শুরু করার আগে প্রথমে যে কাজটি করি তা হচ্ছে নিয়ত করি। আর এই নিয়তি হচ্ছে নামাজে মনোযোগ বাড়ানোর প্রথম মাধ্যম। নিয়ত ছাড়া নামাজ কবুল হয়না। তাই নামাজ কবুল আর নামাজে মনোযোগ বাড়াতে অবশ্যই নিয়ত করেন।


২. সময়মতো নামাজ আদায় করতে হবে

নামাজে মনোযোগ বাড়ানোর আরেকটি যে মাধ্যম রয়েছে সে মাধ্যম হচ্ছে সময়মত  নামাজ আদায় করা। আমরা দৈনন্দিন জীবনে যদি সময় মত সঠিক টাইমে নামাজ আদায় করি তাহলে নামাজের মনোযোগ অটোমেটিক্যালি বেড়ে যাবে। তাই আমরা চেষ্টা করব পাঁচ ওয়াক্ত আযানের সাথে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করতে। তাহলে আমাদের নামাজে মনোযোগ বেড়ে যাবে ইনশাল্লাহ।  


৩. সুন্দরভাবে ওজু করতে হবে

নামাজে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে সুন্দরভাবে অজু করতে হবে। আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে যে ওযু করি সেই ওযু সঠিক সুন্দরভাবে করতে হবে। আমরা অনেকে আছি অজু অতটা গুরুত্ব ভাবে নেই না নিজের ইচ্ছা মত অজু করে সঠিকভাবে অজু করে না সেই ক্ষেত্রে নামাজে মনোযোগি হতে পারে না। তাই আমরা নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য প্রতি ওয়াক্তে সুন্দরভাবে ওযু করব তাহলে আমরা নামাজে মনোযোগি হতে পারব ইনশাল্লাহ ।


৪. পরিষ্কার পোশাক পরতে হবে।

পরিষ্কার পোশাক শুধু নামাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না তার সাথেও আমাদের চলাফেরার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি পরিষ্কার পোশাক পরিধান করি আমরা সব সময় যদি সুন্দর পরিপাটি ভাবে চলাফেরা করি তাহলে আমাদের মন মেজাজ ভালো থাকবে। যখন নামাজে যাব তখন আমাদের পোশাক যেন সুন্দর এবং পরিষ্কার হয় আর নামাজের ক্ষেত্রে সব সময় আমাদের পোশাক সুন্দর পরিষ্কার রাখতে হবে। আর আমাদের পোশাক থেকে যদি দুর্গন্ধ ছড়াই আমাদের পোষাক যদি ছেড়া হয় আমাদের পোশাকে যদি বিভিন্ন ধরনের লেখা থাকে তাহলে কোন ভাবে নামাজে মনোযোগ আসবেনা। তাই আমরা সবসময় সুন্দর পরিপাটি পোশাক পড়ে নামাজে যাব তাহলে নামাজে মনোযোগ বাড়াবে ইনশাল্লাহ।


 ৫. নামাজের স্থান পরিষ্কার রাখুন

 নামাজে মোনাজাত বাড়ানোর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে  আমরা যে জায়গায় নামাজ পড়বো সেই জায়গা যেন পরিষ্কার থাকে। নিরিবিলি ও পরিচ্ছন্ন স্থানে নামাজ পড়লে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। কোন ধরনের গন্ধ কোন ধরনের বস্তু পড়ে না থাকে তাহলে আমরা নামাজে মনোযোগ দিতে পারব না।


৬. আজানের উত্তর দিতে হবে

নামাজের মনোযোগ বাড়ানোর জন্য নিয়মিত আযানের উত্তর দিতে হবে  এবং আযানের পর দোয়া পড়া নামাজের জন্য হৃদয়কে প্রস্তুত করে ফেলে তাই আমরা নিয়মিত আযানের উত্তর ‍দিব এবং আযানের পর দোয়া পাঠ করবো। আজানের উত্তর দেওয়া এবং আজানের পর দোয়া পড়া নামাজের জন্য হৃদয়কে প্রস্তুত করে।


৭. মোবাইল ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট করতে হবে

আমরা নামাজে দাড়ালে কারো না কারো মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠে। আর এই রিংটোন নামাজের মনোযোগ নষ্ট করে দেয়। তই নামাজে দাড়ানোর সময় মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখতে হবে।  তাহলে নামাজে মনোযোগ বাড়াবে ইনশাল্লাহ।


৮. অপ্রয়োজনীয় কথা বলা না বলা

অপ্রয়োজনীয় কথা বেশি বললে মন অস্থির হয়ে যায়, যা নামাজে মনোযোগ নষ্ট করে। তাই প্রয়োজন ছাড়া কথা বলা কমিয়ে জিহ্বাকে সংযত রাখেন। গীবত, পরনিন্দা ও অর্থহীন আলোচনা না করে আল্লাহর জিকির করেন। এতে হৃদয় প্রশান্ত হবে এবং নামাজে খুশু-খুযু ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে। তাহল মনোযোগ বাড়বে।


৯. কিবলার দিকে পূর্ণ মনোযোগ  দিন

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য কিবলার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিন। মনে রাখতে হবে যে, আপনি আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে তাঁর ইবাদত করছেন। চোখ সবমময় সিজদা দেওয়ার স্থানে রাখতে হবে এবং এদিক সেদিকে তাকানো বন্ধ করতে হবে। এতে মন শান্ত হবে এবং নামাজে খুশু খুযু আসবে।


১০. তাকবিরে তাহরিমা ধীরে বলুন

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য তাকবিরে তাহরিমা ধীরে ধীরে ও স্পষ্টভাবে বলতে হবে। (আল্লাহু আকবার) উচ্চারণের সময় মনে করতে হবে যে, আপনি আল্লাহর সামনে দাড়িয়ে আছেন। তাড়াহুড়ো না করে আন্তরিকতার সাথে ও শ্রদ্ধার সঙ্গে নামাজ পড়তে শুরু করতে হবে। এভাবে তাকবিরে তাহরিমা পড়লে মন শান্ত হয় এবং নামাযে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।


 ১১. সূরা ফাতিহার অর্থ বুঝে পড়তে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য সূরা ফাতিহার অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করেন। সুরার অর্থ উপলব্ধি করে তিলাওয়াত করলে আল্লাহর সঙ্গে কথাবার্তার অনুভূতি জাগে এবং মনে হয় যে আল্লাহর সাথে কথা বলছেন। তাই প্রতিটি আয়াত ধীরে ও মনোযোগের সঙ্গে পড়তে হবে এবং তার মর্ম হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তাহলে নামাযে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।


১২. ছোট ছোট সূরার অর্থ শিখতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য ছোট ছোট সূরার অর্থ শিখতে হবে। অর্থ বুঝে তিলাওয়াত করলে প্রতিটি আয়াত হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। এতে কী পড়ছেন তা বুঝতে সহজ হয় এবং মন অন্যদিকে কম যায়। ফলে নামাজে  আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায় ও নামাজে মনোযোগী হওয়া যায়। 


১৩. ধীরে ধীরে কিরাত পড়তে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য ধীরে ধীরে কিরাত পড়তে হবে। তাড়াহুড়ো না করে স্পষ্টতার সাথে প্রতিটি আয়াত তিলাওয়াত করতে হবে। ধীরে ধীরে পড়লে আয়াতের অর্থ হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। এতে নামাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।


১৪. পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রুকু করতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রুকু করতে হবে। তাড়াহুড়ো না করে শান্তভাবে রুকুতে অবস্থান করতে হবে এবং রুকুর তাসবীহ পড়তে হবে। মনে রাখতে হবে যে, এটি আল্লাহর সামনে বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে নামাজে খুশু খুযু বৃদ্ধি পায় এবং নামাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।


১৫. সিজদায় বেশি সময় ‍দিতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য সিজদায় পর্যাপ্ত পরিমান সময় দিতে হবে। শান্তভাবে সিজদায় থেকে তাসবীহ ও দোয়া মনোযোগের সঙ্গে পড়তে হবে। সিজদা হলো আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার এক বিশেষ মুহূর্ত। তাই নামাযে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য সিজদায় বেশি সময় ‍দিতে হবে।

১৬. প্রতিটি রুকন ঠিকভাবে আদায় করতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য প্রতিটি রুকন ধীরে ও সঠিকভাবে আদায় করুন। দাঁড়ানো, রুকু, সিজদা ও বৈঠকে তাড়াহুড়ো না করে স্থিরতা বজায় রাখুন। প্রতিটি রুকনের হক আদায় করলে ইবাদতের প্রতি আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়। এতে নামাজে খুশু-খুযু ও গভীর মনোযোগ অর্জন করা সহজ হয়।


 ১৭. দৃষ্টি সিজদার স্থানে রাখতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য দৃষ্টি সিজদার স্থানে রাখুন। এদিক-সেদিক তাকানো থেকে বিরত থাকলে মনও স্থির থাকে। এটি একাগ্রতা বাড়ায় এবং অপ্রয়োজনীয় চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। ফলে নামাজে খুশু-খুযু ও আল্লাহর প্রতি গভীর মনোযোগ সৃষ্টি হয়।


১৮. দুনিয়ার চিন্তা বাদ দিতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য দুনিয়ার চিন্তা থেকে মনকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। মনে রাখুন, আপনি এই মুহূর্তে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে ইবাদত করছেন। নামাজের সময় পার্থিব ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এতে মন একাগ্র হবে এবং নামাজে খুশু-খুযু বৃদ্ধি পাবে


 ১৯. মনে করতে হবে এটি আপনার জীবনের শেষ নামাজ

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য এমন মনোভাব রাখুন, যেন এটি আপনার জীবনের শেষ নামাজ। এই অনুভূতি ইবাদতে আন্তরিকতা, বিনয় ও একাগ্রতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তখন প্রতিটি রুকন, দোয়া ও তিলাওয়াত আরও মনোযোগের সঙ্গে আদায় করা সহজ হয়। এভাবে নামাজ পড়লে খুশু-খুযু বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর প্রতি গভীর মনোযোগ সৃষ্টি হয়।


 ২০ আল্লাহর মহত্ত্ব স্মরণ করতে হবে. 

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য আল্লাহর মহত্ত্ব ও মহানত্ব স্মরণ করুন। মনে রাখুন, আপনি সমগ্র জগতের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়িয়ে ইবাদত করছেন। এই অনুভূতি হৃদয়ে বিনয়, ভয় ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে। ফলে নামাজে খুশু-খুযু বৃদ্ধি পায় এবং মনোযোগ গভীর হয়।


 ২১. জান্নাতের আশা রাখতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য জান্নাতের আশাকে হৃদয়ে ধারণ করুন। মনে রাখুন, আন্তরিক ইবাদতের উত্তম প্রতিদান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত। এই আশা ইবাদতে উৎসাহ, ধৈর্য ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি করে। ফলে নামাজে খুশু-খুযু ও একাগ্রতা অর্জন করা সহজ হয়।


২২. জাহান্নামের শাস্তি থেকে ভয় করতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য জাহান্নামের শাস্তির ভয় হৃদয়ে ধারণ করুন। জাহান্নামের শাস্তির কথা স্মরণ করলে গুনাহ থেকে দূরে থাকার প্রেরণা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার আশাও অন্তরে জাগ্রত রাখুন। ভয় ও আশার এই ভারসাম্য ইবাদতে আন্তরিকতা ও বিনয় বৃদ্ধি করে। ফলে নামাজে খুশু-খুযু ও গভীর মনোযোগ অর্জন করা সহজ হয়।


২৩. বেশি বেশি জিকির করতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করুন। নিয়মিত জিকির হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং মনকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনে। জিকিরের অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় চিন্তা ও গাফিলত কমাতে সাহায্য করে। এতে নামাজের সময় মন সহজেই একাগ্র হয় এবং খুশু-খুযু বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত জিকির একজন মুমিনের ঈমান ও ইবাদতের মান আরও সুন্দর করে তোলে।


 ২৪. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করুন। কুরআন তিলাওয়াত হৃদয়কে আল্লাহর স্মরণে সজীব ও প্রশান্ত রাখে। নিয়মিত তিলাওয়াত করলে আয়াতের অর্থ ও বার্তা আরও সহজে উপলব্ধি করা যায়। এর ফলে নামাজে কিরাত পড়ার সময় মনোযোগ ও খুশু-খুযু বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে ইবাদতের প্রতি ভালোবাসাও বাড়ে।


 ২৫. হালাল উপার্জন করতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য হালাল উপার্জনের প্রতি গুরুত্ব দিন। হালাল রিজিক হৃদয়কে পবিত্র রাখে এবং ইবাদতে আন্তরিকতা বাড়াতে সহায়তা করে। হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত রাখুন। পবিত্র জীবিকা মানুষের দোয়া ও ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ইসলামে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে নামাজে খুশু-খুযু, প্রশান্তি ও গভীর মনোযোগ অর্জন করা সহজ হয়।


২৬. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য হালাল উপার্জনের প্রতি গুরুত্ব দিন। হালাল রিজিক হৃদয়কে পবিত্র রাখে এবং ইবাদতে আন্তরিকতা বাড়াতে সহায়তা করে। হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত রাখুন। পবিত্র জীবিকা মানুষের দোয়া ও ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ইসলামে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে নামাজে খুশু-খুযু, প্রশান্তি ও গভীর মনোযোগ অর্জন করা সহজ হয়।


২৭. অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত খাবার শরীরে অলসতা সৃষ্টি করে এবং ইবাদতে মনোযোগ কমিয়ে দেয়। পরিমিত খাবার শরীরকে সতেজ রাখে এবং নামাজে একাগ্রতা বৃদ্ধি করে। এতে খুশু-খুযু নিয়ে ইবাদত করা সহজ হয়।


২৮. পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমাতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। অপর্যাপ্ত ঘুম শরীর ও মনকে ক্লান্ত করে, ফলে নামাজে একাগ্রতা কমে যেতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে মন সতেজ থাকে এবং ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। বিশেষ করে ফজরের নামাজের জন্য নিয়মিত ও সময়মতো ঘুমানো উপকারী। এতে নামাজে খুশু-খুযু, প্রশান্তি ও গভীর মনোযোগ অর্জন করা সহজ হয়


২৯. জামাতে সাথে নামাজ পড়তে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য সম্ভব হলে জামাতে নামাজ আদায় করুন। জামাতে নামাজ পড়লে মনোযোগ, শৃঙ্খলা ও ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ইমামের অনুসরণে নামাজ আদায় করলে অপ্রয়োজনীয় চিন্তা কমে যায়। জামাতের পরিবেশ হৃদয়ে ঈমানি অনুভূতি ও খুশু-খুযু জাগ্রত করতে সাহায্য করে। ফলে নামাজ আরও সুন্দর, একাগ্র ও প্রশান্তির সঙ্গে আদায় করা সহজ হয়।


৩০.  বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য বেশি বেশি নফল নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন। নফল ইবাদত আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও গভীর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত নফল নামাজ আদায় করলে হৃদয়ে বিনয় ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ফরজ নামাজেও মনোযোগ, খুশু-খুযু ও আন্তরিকতা আরও বাড়ে। নফল ইবাদতের ধারাবাহিকতা একজন মুমিনের ঈমান ও আমলকে আরও সমৃদ্ধ করে।


৩১. নামাজ শেষে জিকির ও দোয়া করতে হবে

নামাজ শেষে নিয়মিত জিকির ও দোয়া করুন এবং আল্লাহর কাছে খুশু-খুযু প্রার্থনা করুন। জিকির হৃদয়কে প্রশান্ত রাখে এবং আল্লাহর স্মরণে স্থির থাকতে সাহায্য করে। এতে পরবর্তী নামাজে মনোযোগ, একাগ্রতা ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়।


৩২. খুশির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য খুশু-খুযুর জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করুন। আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিক ছাড়া প্রকৃত একাগ্রতা অর্জন করা কঠিন। নিয়মিত দোয়া করলে নামাজে মনোযোগ, খুশু-খুযু ও আল্লাহর নৈকট্য বৃদ্ধি পায়।


৩৩. প্রতিদিন নিজের নামাজ মূল্যায়ন করতে হবে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য প্রতিদিন নিজের নামাজের মূল্যায়ন করতে হবে। ভাবুন, আজকের নামাজে কতটা মনোযোগ ও খুশু-খুযু ছিল এবং কোথায় ভুল হয়েছে। নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধনের চেষ্টা করুন। নিয়মিত আত্মসমালোচনা ইবাদতের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে নামাজে একাগ্রতা, আন্তরিকতা ও খুশু-খুযু বৃদ্ধি পায়।


লেখকের শেষ কথা

নামাজে মনোযোগ একদিনে বাড়ে না। এটি ধীরে ধীরে অনুশীলন, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সাহায্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়। তাই হতাশ না হয়ে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি নামাজকে এমনভাবে আদায় করার চেষ্টা করতে হবে যেন সেটিই আপনার জীবনের শেষ নামাজ হয়।

বন্ধুরা যদি এই ব্লগ ভালো লাগে বা এই ব্লগ পড়ে যদি আপনাদের উপকার হয়ে থাকে তাহলে আপনারা নিয়মিত ব্লগ পেতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। আবার দেখা হবে নতুন কোন এই রকম উপকারি কোন ব্লগ নিয়ে ততদিন ‍সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইটস হিমেল এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url