বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সহজ উপায়

বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশ যেতে চান। কিন্তু ভুল এজেন্সি, দালাল বা ভুয়া চাকরির অফারের কারণে অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা পয়সা জমি জামা সব হারান। তাই নিরাপদভাবে বিদেশে চাকরি নিয়ে যেতে চাইলে সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করা সবচেয়ে ভালো।
বোয়েসেলের-মাধ্যমে-বিদেশ-যাওয়ার-সহজ-উপায়
এই লেখায় সহজ ভাষায় বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, আবেদন, খরচ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

পেজ সূচিপত্রঃ বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সহজ উপায়


বোয়েসেল (BOESL) কী জেনে নিন?

BOESL এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Overseas Employment and Services Limited।
এটি বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান, যা প্রবাসী কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।

BOESL-এর প্রধান কাজ হলো

বিদেশি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির চাহিদা সংগ্রহ করা।
বাংলাদেশ থেকে যোগ্য কর্মী নির্বাচন করা।
স্বচ্ছভাবে বিদেশে কর্মী পাঠানো।
বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে প্রতারণা কমানো।

বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সুবিধা জেনে নিন

বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমনঃ

সরকারি প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে
এটি সম্পূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিশ্বাসযোগ্য হবে।

প্রতারণার ঝুঁকি কম
দালাল বা ভুয়া এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা। তাই এটি অনেক ভালো

ভালো নিয়োগ
বিদেশি কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়। কোন রকমের প্রতারনার শিকার হয়না।

বৈধভাবে বিদেশ যাওয়া যায়
সব কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

তুলনামূলক কম খরচ
অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি এজেন্সির তুলনায় খরচ কম হয়। তবে এটি চাকরি, দেশ এবং নিয়োগকর্তার শর্ত অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

কোন কোন দেশে বোয়েসেলের মাধ্যমে যাওয়া যায় তা জানুন

বোয়েসেলের মাধ্যমে অনেক দেশে যাওয়া যায়। এবং সেখানে নিরাপদে থাকা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যেমনঃ
  • জাপান
  • দক্ষিণ কোরিয়া (যেসব কর্মসূচি BOESL-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়)
  • জর্ডান
  • সৌদি আরব
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)
  • কাতার
  • ওমান
  • ব্রুনেই
  • মালয়েশিয়া (সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী)
  • অন্যান্য দেশ

বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার জন্য কেমন যোগ্যতা লাগে

বোয়েসেল এর মাধ্যমে বিদেশে যেতে হলে নির্দিষ্ট দেশের চাহিদা অনুযায়ী যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। তবে সাধারণভাবে নিচের যোগ্যতাগুলো প্রয়োজন হয়:
  • বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
  • বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
  • বয়স সাধারণত ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে (বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে)।
  • শারীরিকভাবে কর্মক্ষম হতে হবে।
  • প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • কিছু চাকরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ভাষাজ্ঞান প্রয়োজন হতে পারে।

কী কী কাগজপত্র লাগবে জেনে নিন

বিদেশে চাকরির জন্য বোয়েসেলের মাধ্যমে আবেদন করতে সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো প্রয়োজন হয়। তবে দেশ ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে।
  • বৈধ পাসপোর্ট
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন (যেখানে প্রযোজ্য)
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • শিক্ষাগত সনদ
  • অভিজ্ঞতার সনদ (যদি প্রয়োজন হয়)
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (চাকরি অনুযায়ী)
  • মেডিকেল রিপোর্ট (নির্বাচিত হওয়ার পর)
  • অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বোয়েসেলের মাধ্যমে আবেদন করার ধাপ গুলা কি কি?


 বোয়েসেলের মাধ্যমে আবেদন করার ধাপ গুলা নিচে দেওয়া হলো আপনি ভালো ভাবে পড়ে বুঝে নিন।

ধাপ ১: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন
BOESL যখন বিদেশে কর্মী নেয়, তখন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে
  • দেশ
  • পদ
  • বেতন
  • যোগ্যতা
  • আবেদন পদ্ধতি
  • শেষ তারিখ
ধাপ ২: আবেদন করুন
বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।
অনেক ক্ষেত্রে আবেদন অনলাইনে করা যায়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্থানে কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে।

ধাপ ৩: কাগজপত্র যাচাই
আপনার জমা দেওয়া তথ্য যাচাই করা হবে।

ধাপ ৪: লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা
সব চাকরিতে পরীক্ষা হয় না।
তবে প্রয়োজন হলে
  • সাক্ষাৎকার
  • দক্ষতা পরীক্ষা
  • ভাষা পরীক্ষা
  • নেওয়া হতে পারে।

ধাপ ৫: চূড়ান্ত নির্বাচন
যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়।

ধাপ ৬: মেডিকেল পরীক্ষা
বিদেশ যাওয়ার আগে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হয়।

ধাপ ৭: ভিসা ও প্রশিক্ষণ
  • প্রয়োজন অনুযায়ী
  • ভিসা প্রক্রিয়া
  • ওরিয়েন্টেশন
  • প্রি-ডিপার্চার প্রশিক্ষণ
  • সম্পন্ন করা হয়।

ধাপ ৮: বিদেশে যাত্রা
সব প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশে যেতে পারবেন।
আবেদন করার পর কী করতে হয় জেনে নিন?
আবেদন করার পর সাধারণত
  • আবেদন যাচাই করা হয়।
  • যোগ্যদের শর্টলিস্ট করা হয়।
  • সাক্ষাৎকার বা পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।
  • নির্বাচিতদের মেডিকেল করানো হয়।
  • ভিসা সম্পন্ন করা হয়।
  • এরপর বিদেশে পাঠানো হয়।
সব আবেদনকারী নির্বাচিত হন না। নির্বাচন সম্পূর্ণ চাকরির শর্ত ও নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে থাকে।

খরচ যা হতে পারে?

বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার অন্যতম সুবিধা হলো, খরচ সাধারণত বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির তুলনায় কম এবং স্বচ্ছ হয়। তবে দেশ, পেশা এবং নিয়োগকর্তার শর্ত অনুযায়ী খরচ ভিন্ন হতে পারে।

সম্ভাব্য খরচের খাত নিচে দেওয়া হলো 

  • সার্ভিস চার্জ: চাকরির ক্যাটাগরি ও দেশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
  • পাসপোর্ট (যদি আগে না থাকে)
  • মেডিকেল পরীক্ষা
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (যদি প্রয়োজন হয়)
  • স্মার্ট কার্ড ও ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার ফি
  • প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন
  • ভিসা সংক্রান্ত কিছু আনুষঙ্গিক খরচ (যদি প্রযোজ্য হয়)
  • মোট খরচ কত হতে পারে?
সাধারণভাবে অনেক নিয়োগে মোট সরকারি ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচ প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা এর মধ্যে হতে পারে। তবে কিছু দক্ষ বা পেশাজীবী পদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি হতে পারে। অনেক নিয়োগে বিমান ভাড়া নিয়োগকর্তাই বহন করেন, ফলে প্রার্থীর মোট খরচ কমে যায়।


বিদেশ যাওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নিন

বিদেশ যাওয়ার আগে অবশ্যই
চাকরির অফার লেটার ভালোভাবে পড়ুন।
বেতন ও সুবিধা বুঝে নিন।
কাজের ধরন জেনে নিন।
চুক্তিপত্র পড়ে স্বাক্ষর করুন।
নিজের পাসপোর্ট অন্য কারও কাছে জমা দেবেন না, যদি না বৈধ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন হয়।
দালালের কথায় বিশ্বাস করবেন না।
শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন গুলা জেনে নিন

BOESL কি সরকারি প্রতিষ্ঠান?
হ্যাঁ। এটি বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

BOESL-এর মাধ্যমে বিদেশ যাওয়া কি নিরাপদ?
সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং স্বচ্ছ।

আবেদন করতে কি পাসপোর্ট লাগবে?
হ্যাঁ, অধিকাংশ নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট প্রয়োজন।

সব সময় কি নিয়োগ থাকে?
না। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তবেই আবেদন করা যায়।

সবাই কি নির্বাচিত হয়?
না। যোগ্যতা, শূন্যপদ এবং নিয়োগকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়।

লেখকের শেষ কথা

বিদেশে নিরাপদ ও বৈধভাবে চাকরি করতে চাইলে বোয়েসেলের মাধ্যমে আবেদন করা একটি ভালো বিকল্প। তবে কোনো ব্যক্তি বা দালালের কথায় বিশ্বাস না করে শুধুমাত্র সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। আবেদন করার আগে যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ এবং চাকরির শর্ত ভালোভাবে জেনে নিলে বিদেশে কর্মজীবন শুরু করা অনেক সহজ হবে।

বন্ধুরা যদি এই ব্লগ ভালো লাগে বা এই ব্লগ পড়ে যদি আপনাদের উপকার হয়ে থাকে তাহলে আপনারা নিয়মিত ব্লগ পেতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। আবার দেখা হবে নতুন কোন এই রকম উপকারি কোন ব্লগ নিয়ে ততদিন ‍সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইটস হিমেল এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url