১০ টি ঔষধি গাছের নাম ও উপকারীতা
কেমন হয় বলেন তো যদি আপনার রোগ আপনি বাড়িতেই নিরামিই করতে পারেন কোন রকম
চিকিৎসা খরচ ছাড়াই। তাহলে ১০ টি ঔষধি গাছের নাম ও উপকারীতা জানাটা আপনার
জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি যখন অল্পতেই অসুস্থ হয়ে যান আর অসুস্থ হলেই
চিকিৎসা নেয়ার জন্য হাসপাতালে ডাক্তারের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান। কিন্তু আপনি
জানেন না যে আপনার রোগের ঔষধি আপনার বাড়ির আশেপাশে এবং বাড়িতেই আছে।
আমি আপনাদের এমন ১০ টি ঔষধি গাছের নাম ও উপকারীতা বলবো যেগুলা ব্যবহার করলে আপনি
কোন রকম প্রার্শপ্রতিক্রীয়া ছাড়াই আপনার রোগ নিরাময় করতে পারবেন। চলুন তাহলে আমি
বলে দিই ১০ টি উপকারী গাছের নামঃ
পেজ সুচিপত্রঃ ১০ টি ঔষধি গাছের নাম ও উপকারীতা
- ১০ টি ঔষধি গাছের নাম ও উপকারীতা
- তুলসী গাছের নাম ও উপকারীতা
- থানকুনি গাছের নাম ও উপকারীতা
- অ্যালোভেরা গাছের নাম ও উপকারীতা
- নিশিন্দা গাছের নাম ও উপকারীতা
- নিম গাছের নাম ও উপকারীতা
- বাসক গাছের নাম ও উপকারীতা
- পুদিনা গাছের নাম ও উপকারীতা
- পাথরকুচি গাছের নাম ও উপকারীতা
- আমলকি গাছের নাম ও উপকারীতা
- আদা গাছের নাম ও উপকারীতা
- লেখকের শেষ কথা
১০ টি ঔষধি গাছের নাম ও উপকারীতা
আপনার যেকোনো অসুস্থ হলেই আপনি সাধারণত ডাক্তারের কাছে যান। কিন্তু অসুস্থতা দূর
করার ঔষধ যে আপনার বাড়ির আশে পাশে আছে এটা আপনি জানেন না। আমি আপনাদের এমন
প্রাকৃতিক দশটি ওষুধের গাছের নাম বলবো এবং তার উপকারীতা বলবো যা জানলে আপনি অতি
তাড়াতাড়ি আপনার রোগ নিরাময় করতে পারবেন। যে ১০ ঔষধি গাছ আছে তার বর্ণনানিচে
দেওয়া হলো
তুলসী গাছের নাম ও উপকারীতা
তুলসী গাছের নাম হয়তো আপনারা শুনেছেন বা গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলাফেরার
সময় রাস্তার সাইটে জংগলের ভিতর দেখেছেন। কিন্তু আপনারা জানেন না যে এই ছোট্ট
একটি গাছের ঔষধি গুণাগুণ অনেকে রয়েছে। এবার আমি আপনাদের তুলসে গাছের
কিছু উপকার বলব।
উপকারীতাঃ
- সর্দি কাশি ও গলা ব্যথা কমাতে তুলসী পাতার অনেক সাহায্য করে।
- বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে সাহায্য করে।
- হজমে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে এবং গ্যাসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে
- তুলসি পাতায় এন্ডঅক্সিডেন্ট ওএনটি ব্যাকটেরিয়াল গুণ থাকায় শরীরকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
- মানসিক চাপ কমাতে ও শরীরকে সতেজ রাখতে তুলশী পাতার গুরুত্ব অপরাসীম।
- মশার কামড় বা হালকা ত্বকের জ্বালায় তুলসী পাতা রস ব্যবহার করলে তা ভালো হয়ে যায়।
- মুখের দুর্গন্ধ কমাতে এবং মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে তুলসি পাতা অনেক সহায়তা করে।
থানকুনি নাম ও উপকারীতা
আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ হচ্ছে থানকুনি পাতা।
থানকুনি গাছের গুনাগুন অনেক বেশি। থানকুনি পাতার চাহিদা গ্রাম এবং শহরের সমান।
ঢাকা শহরে কাঁচাবাজার এবং অলিগলির বিক্রেতাদের কাছে আপনি এটি সবসময় পাবেন৷
সাধারণত পেটের অসুখের চিকিৎসায় থানকুনি পাতা বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে অন্যান্য
ভেষজ উদ্ভিদের সাথে এর খাওয়া পদ্ধতিতে কিছুটা ফারাক আছে। আপনি রস করে এবং
চিবিয়ে তো খেতে পারবেন যেভাবেই খান না কেন আপনার শরীরে উপকারী ভূমিকা পাবেন।
উপকারীতাঃ
- মানুষের হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
- ক্ষত দ্রুত শুকাতে ও ত্বকের যত্নে উপকারী হিসেবে ভালো কাজ করে।
- স্মৃতিশক্তি বাড়ে ও যেকোন বিষয়ে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
- শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকায় রোগ প্রতিরোধে অসীম ভূমিকা পালন করে।
অ্যালোভেরা গাছের নাম ও উপকারীতা
অ্যালোভেরার জুস বিক্রি হচ্ছে এবং চাহিদাও অনেক বেশি কারন এর উপকারী
গুনাগুন বলে শেষ করা যাবেনা। চলুন তাহলে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক অ্যালোভেরা
গাছে কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের উপকার করেছে।
উপকারীতাঃ
ত্বককে সুন্দর করে এবং রোদে পোড়া ত্বককে ঠান্ড করতে সাহায্য করে।
ছোটখাটো বড় কাটা ছেঁড়া ও পুড়ে গেলেে এর জেল ব্যবহার করলে অনেক বেশি আরাম
পাওয়া যায়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকাযর কারনে ত্বকের যত্নে খুব
উপকারী।
মাথার চুলের গোড়া ও মাথার ত্বক ভালো রাখতে অনেক বেশি সাহায্য করে।
মুখের ত্বকের ব্রণ ও শুষ্কতা কমাতে অনেক বেশি সাহায্য করে।
নিশিন্দা গাছের নাম ও উপকারীতা
নিশিন্দা গাছের উপকারীতা বলে শেষ করা যাবেনা। গ্রামের বাড়ির আঙিনায়ক
হার হামেশাই আপনি নিশিন্দার গাছ দেখা পেতে পারেন। এই নিশিন্দা গাছ বাসায় থাকা
মানে এটি আপনার ওষুধের খরচ অনেক অংশে কমিয়ে দেবে বিশেষত শহর অঞ্চলে প্রায়
প্রতি বাসাতেই এমন লোক থাকে যার মাথায় খুশকির সমস্যা থাকে। নিশিন্দা খুশকি দূর
করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে এছাড়া এর আর যেসব গুণ আছে তা হলো
উপকারীতাঃ
স্মৃতিশক্তি বন্ধক হিসেবে নিশিন্দা পাতা ব্যবহৃত হয়।
মাথার খুশকি ও টাকের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকরী।
শরীরের বিভিন্ন স্থানের চুলকানির নিরামযয়ে এটি ব্যবহৃত হয়।
নিশিন্দা গাছের বাকল চায়ের মতন করে খেলে হাঁপানি দুর হয়।
ক্ষতস্থানে পাতার পেস্ট ব্যবহার করলে আরাম পেতে পারেন।
সর্দি-কাশি ও জ্বরের উপসর্গ উপশমে ব্যবহৃত হয়।
নিম গাছের নাম ও উপকারীতা
নিম গাছের উপকারীতা বাংলা সাহিত্যের রথী মহারথীর নিমকে খাদ্য হিসেবে
খলনায়কের আসনে বসালেও নিমের যে উপকারীতা তা বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের
দেশের গ্রামাঞ্চলের সবচাইতে পরিচিত হচ্ছে নিম গাছ। নিম গাছ বাড়ির আশেপাশে
দেখা যায়। বাড়ির আঙিনায় একটি নিমগাছ রাখলে নিমের পাতা থেকে শুরু করে ফল
ডাল এমনকি সালবাগোল পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। বলতে গেলে নিম গাছের
পুরোটাই ঔষধি গুনাগুনে ভরপুর।
উপকারীতাঃ
বুকে কফ জমে থাকলে তিন চার দিন নিম পাতার রস নিয়মিত পান করলে তা বুকের কফ
সরিয়ে ফেলে।
নিমের পাতা হালকা বেটে মাথায় ব্যবহার করলে তা উকুন উকুন সাফাই করতে
সাহায্য করে।
পোকামাকড়ের কামড়ালে সেখানে নিম পাতার ছালভেটে লাগালে ব্যথা উপশম হয়।
দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিমের ডাল ও পাতা অনেক ভালো ব্যবহার
হয়।
নিমের তেল গর্ভধারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়
পেটের অসুখ বা পাতলা পায়খানা নিমের খুবই উপকারী
নিমের ফুল বেটে মাথায় মাখলে উকুন মরে যায়।
নিম ফুল ভাজা খেলে রাতকানা উপশম হয়।
অল্প পরিমাণ নিম পাতার নির্যাস খেলে মানসিক চাপ ও মানসিক অশান্তি কমে যায়।
কাঁচা নিম পাতা ১০ গ্রাম ২ কাপ পানিতে জ্বাল করে ১ (এক) কাপ অবশিষ্ট থাকতে
ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মতো চিনি কাঁচা নিম পাতা ১০ গ্রাম ২ কাপ পানিতে
জ্বাল করে ১ (এক) কাপ অবশিষ্ট থাকতে ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মতো চিনি মিশিয়ে
সেবন করলে রক্ত পরিস্কার ও চর্ম রোগ দূর হয়
বাসক গাছের নাম ও উপকারীতা
বাসক হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উদ্ভিদ যা প্রাচীনকাল থেকে আয়ুর্বেদিক ও
ইউনানি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি জনপ্রিয় ভেষজত অসুধ গুলর মধ্যে বাসক
অন্যতম। এটি বিশেষভাবে শ্বাসনালী ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান
হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উপকারীতাঃ
বাসকের পাতা থেকে তৈরি ওষুধ শ্বাসনালীর মিউকাস দূর করে কাশি কমায়।
শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি রোগের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।
শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ ও গলা ব্যথা নিরাময়ে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
জ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ঠাণ্ডা-সর্দিতে কার্যকর।
খাবার হজমে সাহায্য করে ও পেটের সমস্যার সমাধান দেয়।
পুদিনা গাছের নাম ও উপকারীতা
পুদিনা পাতা আমাদের সকলের কাছেই পরিচিত। পুদিনা একটি সাধারণ আগাছা ধরনের
গাছ। কাণ্ড ও পাতা বেশ নরম। কাণ্ডের রঙ বেগুনি, পাতার রঙ সবুজ। ছোট গুল্ম
জাতীয় এই গাছের পাতা ডিম্বাকার, পাতার কিনারা খাঁজকাটা ও সুগন্ধীযুক্ত হয়।
পাতা কিছুটা রোমশ ও মিন্টের তীব্র গন্ধযুক্ত। পুদিনা পাতার মূল, পাতা,
কান্ড সহ সমগ্র গাছই ওষুধীগুনে পরিপূর্ণ । বিশ্বের অনেক দেশেই পুদিনার গাছ
জন্মে। এর পাতা সুগন্ধি হিসাবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়।
উপকারীতাঃ
- গরমে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও ফুসকুরি সমস্যায় কয়েকটি পুদিনার পাতা চটকে গোসলের জলতে মিশিয়ে স্নান করলে ভালো কাজ হয়
- মুখের দুর্গন্ধ দুর করতে পুদিনা পাতা জলের সাথে মিশিয়ে কুলি করুন।উপকার পাবেন।
- পুদিনা পাতা হজম শক্তি বাড়ায়,মুখের অরুচি ও গ্যাসের সমস্যা দুর করে, কর্মক্ষমতা বৃদ্বি করে ও শরীর ঠান্ডা রাখে।
- পুদিনা ত্বকের যে কোনো সংক্রমণকে ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। শুকনো পুদিনা পাতা ফুটিয়ে পুদিনার জল তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন। এক বালতি জলতে দশ থেকে পনেরো চামচ পুদিনার জল মিশিয়ে স্নান করুন। এর ফলে গরমকালে শরীরে ব্যাকটেরিয়া জনিত বিশ্রী দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পাবেন, কেননা পুদিনার অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট গুণ অতুলনীয়। ঘামাচি, অ্যালার্জিও হবে না।
- পুদিনা পাতার রস তাত্ক্ষণিক ব্যথানাশক উপাদান হিসেবে কাজ করে। পুদিনা পাতার রস চামড়ার ভেতর দিয়ে নার্ভে পৌঁছে নার্ভ শান্ত করতে সহায়তা করে। তাই মাথা ব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা উপশমে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যায়। মাথা ব্যথা হলে পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। অথবা তাজা কিছু পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টে ব্যথায় পুদিনা পাতা বেটে প্রলেপ দিতে পারেন।
- পুদিনা পাতার চা শরীরের ব্যাথা দুর করতে খুবই উপকারী।
- মাইগ্রেনের ব্যাথা দুর করতে নাকের কাছে টাটকা পুদিনা পাতা ধরুন।এর গন্ধ মাথাব্যাথা সারাতে খুবই উপকারী।
- কোন ব্যাক্তি হঠাত করে অগ্গান হয়ে গেলে তার নাকের কাছে পুদিনা পাতা ধরুন।সেন্স ফিরে আসবে।
- অনবরত হেচকি উঠলে পুদিনা পাতার সাথে গোলমরিচ পিষে ছেকে নিয়ে রসটুকু পান করুন।কিছুক্ষনের মধ্যেই হেচকি বন্ধ হয়ে যাবে।
- গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাঁধাকপি ও শশার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে তা ত্বককে মসৃণ করে তোলে।
পাথরকুচি গাছের নাম ও উপকারীতা
পাথরকুচি গাছ আমাদের পরিবেশে বেশ পরিচিত একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এই গাছের পাতা, ফুল
এবং শেকড়ে রয়েছে অসাধারণ ঔষধি গুণাবলি, যা প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন রোগের
চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গ্রামীণ চিকিৎসায় বিশেষত এটি একটি জনপ্রিয়
উদ্ভিদ। আজকের ব্লগে আমরা পাথরকুচি গাছের নানা দিক তুলে ধরব, যেমন এর ঔষধি গুণ,
ব্যবহার ও যত্নের পদ্ধতি।
উপকারীতাঃ
- কিডনির পাথর অপসারণ: পাথরকুচি পাতার রস কিডনির পাথর ভাঙতে সহায়ক বলে অনেকেই মনে করেন। নিয়মিত এই পাতার রস খেলে কিডনির পাথর ধীরে ধীরে গলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
- বাতের ব্যথা উপশম: বাতের ব্যথা এবং গাঁটে গাঁটে ব্যথা নিরাময়ে পাথরকুচি পাতা বেশ উপকারী। গাছের পাতার রস বা পাতা বেটে ব্যথার স্থানে লাগালে আরাম পাওয়া যায়।
- জ্বর ও সর্দি কাশি: পাথরকুচি পাতার রস জ্বর এবং সর্দি-কাশি কমাতে সহায়ক। এটি একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাগুলো দূর করতে সাহায্য করে।
- আলসার নিরাময়: পাথরকুচি পাতা গ্যাস্ট্রিক ও আলসার নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এর রস পেটের অম্লতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
- ক্ষত সারাতে: পাথরকুচি পাতার রস ক্ষতস্থানে লাগালে দ্রুত আরোগ্য লাভ হয়। এতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি
আমলকি গাছের নাম ও উপকারীতা
মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির কল্যাণে দুনিয়ায় অগণিত জিনিস সৃষ্টি করেছেন।
এরকম কোটি কোটি সৃষ্টির মধ্যে মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী ও ঔষুধি গুণে ভরপুর
একটি ফলের নাম আমলকি। দেশীয় ফল হিসেবে আমলকি সবার কাছেই পরিচিত। এটি দামে
যেমন সস্তা ও সহজলভ্য, তেমনি এর রয়েছে নানাবিধ উপকারীতা। আমলকি গাছের পাতা ও ফল
উভয়ই ওষুধরূপে ব্যবহার করা যায়। এই ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ‘সি’ থাকে যা
অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেক বেশী। এর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার গুণ
রয়েছে। তাই বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতে আমলকির ভূমিকা
অপরীসিম। কয়েক ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও এর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া
গেছে। আজকে আমরা জানব আমলকির বিভিন্ন পুষ্টি ও ওষধি গুনাগুণ সম্পর্কে।
উপকারীতাঃ
- গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা দূর করতে সাহায্য করে
- হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায করে
- রক্তের সুগার কমাতে সাহায করে
- দাঁতের মাড়ি রোগ স্কার্ভি দূরীকরণে সাহায করে
- কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস চিকিৎসায় ভূমিকা পালব করে
- চুলের যত্নে ও খুশকির সমস্যা দূর করতে সাহায করে
আদা গাছের নাম ও উপকারীতা
আদা হল একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের মূল বা রাইজোম যা জিঙ্গিবার অফিশনালিস নামে পরিচিত,
যা ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয়। আদার পুষ্টিগুণ ও উপকারীতা, এটি
আশ্চর্যজনক ঔষধি গুণাবলীর জন্য পরিচিত,আদা বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধে সক্রিয়
উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের বাংলাদেশের অধিকাংশ জমিতে আদার চাষ হয়। আদা
মশলার চাহিদা পূরণ করে। আদা সাধারণত পাহাড়ি এলাকায় সবচেয়ে ভালো জন্মে।
বাংলাদেশের কিছু জেলা যেমন রাঙ্গামাটি, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল এ আদার চাষ
বেশি হয়। আর আদার চাহিদা অতীতেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
উপকারীতাঃ
- আমাশয়, পেটফাঁপা, পেটব্যথা দূর করতে সাহায করে
- মাইগ্রেন, সাইনাস, গলা ও মাথাব্যথায় ভাল কাজ করে
- বমিভাব দূর করে
- আদা ও লেবুর রসের সঙ্গে মধু দারুণ কার্যকর
লেখকের শেষ কথা
১০ টি ঔষধি গাছের নাম ও উপকারীতা আপনি যদি জানেন তাহলে আর আপনাকে অল্প অসুস্থতাই মেডিকেল জেতে হবে না। আপনি নিজে নিজে নিজের অসুক ভাল করতে পারবেন।
যদি এই ব্লগ পরে আপনার উপকার হয় তাহলে আপনি আমার ব্লগ পেজ টি পরবর্তি ব্লগ পেতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন
তাহলে নতুন নতুন আপডেট পাবেন ধন্যবাদ।

ইটস হিমেল এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url